সক্ষমতা ছাপিয়েও কেন লোডশেডিং? অন্ধকারে চট্টগ্রাম!
খুলশীর বাসিন্দা সানি জানান, দিনে প্রায় ৭ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না, বিশেষ করে গত রাতের ঝড়ের পর পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে।
সক্ষমতা ছাপিয়েও কেন লোডশেডিং? অন্ধকারে চট্টগ্রাম! | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
চৈত্রের প্রচণ্ড দাবদাহে চট্টগ্রামের জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অব্যাহত লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরবাসী। যদিও সরকার মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব দেশের জ্বালানি খাতে পড়েনি বলে দাবি করছে, তবে পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি সাধারণ মানুষের মনে ভিন্ন আশঙ্কার জন্ম দিচ্ছে।
পিডিবির (বিপিডিবি) মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৯,৫০০ মেগাওয়াট। গত ২৪ ঘণ্টায় ২১টি কেন্দ্র থেকে দুই দফায় যথাক্রমে ১,৭১০ ও ২,৪৫৮.৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, যা ১,৪০০.৩০ ও ১,৫২৩.৬০ মেগাওয়াট চাহিদার তুলনায় অনেকটাই বেশি। বিপিডিবির দাবি, এই সময়ে মোট লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৪৯ মেগাওয়াট।
তবে কর্তৃপক্ষের এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে সাধারণ গ্রাহকদের অভিজ্ঞতার বিস্তর ব্যবধান দেখা গেছে। খুলশীর বাসিন্দা সানি জানান, দিনে প্রায় ৭ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ ছিল না, বিশেষ করে গত রাতের ঝড়ের পর পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে।
হালিশহর এলাকার মাহমুদও গতকাল ৫ ঘণ্টার বেশি সময় লোডশেডিংয়ের শিকার হওয়ার কথা জানান। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের এই প্রভাব পড়ছে শিল্প খাতেও।
বিজিএমইএ পরিচালক এম এ সালাম সতর্ক করে বলেন যে, জ্বালানি সংকটের এই সময়ে ভারত ও ভিয়েতনামের মতো নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে টিকে থাকতে হলে সরকারকে আরও আন্তরিক ও কৌশলী হতে হবে।
বিপিডিবি চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দীন আহমেদ অবশ্য এই পরিস্থিতির জন্য সাম্প্রতিক অতিরিক্ত গরম ও বাড়তি চাহিদাকে দায়ী করেছেন। বাণিজ্যিক এই নগরীর ভোগান্তি কমাতে সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।