ভরা মৌসুমেও চট্টগ্রামে চালের বাজারে উত্তাপ
বাজারে নিত্যপণ্যের দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা। ভোজ্যতেলের পর এখন প্রধান খাদ্যশস্য চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা হিমশিম খাচ্ছেন।
ভরা মৌসুমেও চট্টগ্রামে চালের বাজারে উত্তাপ | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
চালের পর্যাপ্ত সরকারি মজুদ ও সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সুখবরের মধ্যেই চট্টগ্রামে চালের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়ে চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চট্টগ্রামের পাহাড়তলীসহ বিভিন্ন আড়তে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা চালের দাম মানভেদে ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মিনিকেট, আতপ, স্বর্ণা ও জিরাশাইলের মতো জনপ্রিয় চালগুলোর দাম কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
বাজারে নিত্যপণ্যের দামের এই ঊর্ধ্বগতিতে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ ক্রেতারা। ভোজ্যতেলের পর এখন প্রধান খাদ্যশস্য চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা হিমশিম খাচ্ছেন। খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, উত্তরবঙ্গ থেকে চাল পরিবহনে ট্রাক ভাড়া আগের তুলনায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। তবে ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা মনে করছেন, চৈত্র মাস হওয়ায় পুরানো মজুদ শেষ হয়ে আসছে, যা দাম বাড়ার একটি কারণ। তবে তারা আশ্বস্ত করেছেন যে বাজারে নতুন চাল আসতে শুরু করেছে এবং আগামী ১৫-২০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
অন্যদিকে, বাজারের এই প্রতিকূল পরিস্থিতির বিপরীতে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য অধিদপ্তর ধান-চাল সংগ্রহে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১১০ শতাংশ চাল সংগৃহীত হয়েছে, যেখানে টানা পাঁচ মৌসুম পর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে এবারই প্রথম বড় সাফল্য এল। বিশেষ করে ধান সংগ্রহের হার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন গুণেরও বেশি (৩২৪ শতাংশ) হয়েছে। আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের মতে, বাজারে সরকারি মূল্যের সাথে সামঞ্জস্যতা এবং ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা সরাসরি সরকারকে ধান দিতে আগ্রহী হয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।