আনোয়ারা উপকূলে ধ্বসে পড়ছে বেড়িবাঁধ, দ্রুত টেকসই সংস্কারের দাবি
এই অবস্থায় দ্রুত টেকসই সংস্কার করা না হলে যেকোনো বড় জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি ও জীবনজীবিকা ধ্বংস হয়ে যাবে।
আনোয়ারার রায়পুরের বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে | ফটো: ঢাকা পোস্ট
আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় রায়পুর ইউনিয়নের মধ্যম গহিরা বাইঘ্যার ঘাট এলাকার প্রায় ১২০ মিটার বেড়িবাঁধ চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
টানা বর্ষণ ও সাগরের জোয়ারের তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই অংশটি নিয়ে দিনরাত চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ওই অঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার উপকূলবাসী। বেড়িবাঁধটি ভেঙে গিয়ে যেকোনো সময় পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়দের সুরক্ষা দিতে আপাতত জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
সরজমিনে দেখা গেছে, খানাখন্দ ও থকথকে কাদামাটিতে ভরা এই সরু ও ভঙ্গুর বাঁধের ওপর দিয়েই জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে স্থানীয় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কাদা ও পিচ্ছিল রাস্তার কারণে কোনো জরুরি মুমূর্ষু রোগী বা প্রসূতিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য যানবাহনে তোলা এখন বড় এক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।
এছাড়া এই সরু বাঁধের ওপর দিয়ে নিয়মিত মাছবোঝাই ভারী ট্রাক যাতায়াত করায় মাটি কেঁপে উঠে ঝুঁকির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, আহমদুর রহমান মোকা ও সাবেক ইউপি সদস্য ছালেহ আহমদ জানান, অব্যাহত ভাঙনে বাঁধের দুই থেকে তিন ফুট মাটি ইতিমধ্যেই সাগরে তলিয়ে গেছে এবং মাত্র দুই থেকে আড়াই ফুট অংশ কোনোমতে টিকে রয়েছে।
এই অবস্থায় দ্রুত টেকসই সংস্কার করা না হলে যেকোনো বড় জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি ও জীবনজীবিকা ধ্বংস হয়ে যাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে প্রায় ৫৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া আনোয়ারা উপকূল প্রতিরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ৪৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ গত জুনে শেষ হলেও বাইঘ্যার ঘাটের ১২০ মিটার এবং ঘাটকূল এলাকার ৭০০ মিটার অংশ অরক্ষিত থেকে যায়।
তবে একনেকে অনুমোদিত নতুন প্রকল্পের আওতায় রায়পুর ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নে প্রায় ৫.১৭৫ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ জানান, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সমন্বয়ে বর্তমানে পুনর্বাসন কাজ চলছে এবং বাইঘ্যার ঘাটের ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত রয়েছে।
বর্ষাকালে ঝুঁকি এড়াতে জিও ব্যাগ দিয়ে রাখা হলেও আগামী শুষ্ক মৌসুমে সেখানে স্থায়ী সিসি ব্লকের কাজ শুরু হবে এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।
তথ্যসূত্রঃ ঢাকা পোস্ট