হাইলধরে তীব্র নদীভাঙন, বারখাইনে প্রকাশ্যে স্কেভেটর দিয়ে বালু লুট; বেপরোয়া বালু সিন্ডিকেট!
এলাকা রক্ষায় রাজপথে নামার হুঁশিয়ারী দেন হাইলধর ও বারখাইনের সচেতন নাগরিকেরা।
ইছাখালী গ্রামে একদিকে নদীভাঙন, আরেকদিকে অবৈধ বালু তোলা হচ্ছে | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ও বারখাইন ইউনিয়নে এবার প্রকাশ্যে দিনের আলোতে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলনের কারনে হাইলধর ইউনিয়নের ইছাখালীতে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন দুই ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, প্রকাশ্যে দিনদুপুরে সাঙ্গু নদী থেকে ভারী ড্রেজার ও স্কেভেটর বসিয়ে অনবরত বালু তোলা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের চোখের সামনে উন্মুক্তভাবে অবৈধ বালু তোলার যেন মহোৎসব চলছে ফলে স্থানীয় নদীপাড়ের ঘর-বাড়ী, ফসলি জমি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি মারাত্মক ভাঙন ও হুমকির মুখে পড়েছে।
উপজেলার হাইলধর ও বারখাইন ইউনিয়নের ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা অভিযোগ করেছে, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ যোগসাজশ ছাড়া দিনের আলোতে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় প্রশাসনকে একপ্রকার ‘ম্যানেজ’ করেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটটি প্রকাশ্য দিবালোকে নিজেদের অবৈধ ও অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে লোকদেখানো দু-একটি প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা মূল অপরাধীদের থামাতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না, বরং প্রশাসনের এমন নীরবতায় স্থানীয়দের মনে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনের ঝিমিয়ে থাকার কারনে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ।
ভুক্তভোগী এলাকার সতর্ক সতর্ক করে দিয়েছেন যে, প্রশাসন যদি অবিলম্বে উৎসে গিয়ে এই বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে তারা আর চুপ করে থাকবেন না।
বালু বহনকারী যানবাহন প্রতিরোধ, সড়ক অবরোধ এবং সংঘবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে নিজেদের এলাকা ও পরিবেশ রক্ষায় রাজপথে নামার হুঁশিয়ারী দেন হাইলধর ও বারখাইনের সচেতন নাগরিকেরা।