কর্ণফুলীতে বাস-ট্রাক-সিএনজির ত্রিমুখী সংঘাত, সিএনজি চালক নিহত
দুর্ঘটনায় নিহত সিএনজি অটোরিকশা চালকের নাম দোলন কান্তি দে সুমন (৪০)। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের সাধন চন্দ্র দে'র ছেলে।
ফটো: সংগৃহীত
কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক মোড়ে বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, সিমেন্ট মিক্সার ও দুটি সিএনজি অটোরিকশার মধ্যে এক ভয়াবহ পঞ্চমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া একটি অটোরিকশার চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপর এক অটোরিকশা চালকসহ বাসের অন্তত চারজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের মইজ্জ্যারটেক মোড়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় নিহত সিএনজি অটোরিকশা চালকের নাম দোলন কান্তি দে সুমন (৪০)। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের সাধন চন্দ্র দে'র ছেলে।
অন্যদিকে গুরুতর আহতদের মধ্যে অপর সিএনজি চালক মো. রুবেল (৩০)-এর নাম জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটির চালক ও হেলপার দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করতে পারেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালের দিকে মহাসড়কে যানবাহনের বেশ চাপ ছিল। এ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি নিয়ন্ত্রণহীন বাস সামনে থাকা দুটি সিএনজি অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা দুটি সামনে থাকা একটি পণ্যবাহী ট্রাক ও একটি বড় সিমেন্ট মিক্সার ট্রাকের মাঝখানে পড়ে পিষ্ট হয়। মুহূর্তের মধ্যে অটোরিকশা দুটি লোহালক্কড়ের স্তূপে পরিণত হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, ভয়াবহ বিকট শব্দ শুনে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সিএনজি দুটিকে একদম চ্যাপ্টা অবস্থায় দেখতে পান। চালককে বের করার আগেই তিনি মারা যান এবং পরে স্থানীয় লোকজন মিলে বাকি আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
খবর পেয়ে কর্ণফুলী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সরিয়ে নেয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া দুটি সিএনজি অটোরিকশাসহ মোট পাঁচটি যানবাহন জব্দ করেছে।
জব্দকৃত গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি বাস (চট্ট মেট্রো- জ, ১১-০৫২৩), সেভেন রিংস সিমেন্ট লিমিটেডের একটি পণ্যবাহী ট্রাক (চট্ট মেট্রো- উ- ১১-১১৭৫) এবং প্রিমিয়ার সিমেন্টের একটি বড় মিক্সার পরিবহন (ঢাকা মেট্রো- শ -১১-২৯১৯)।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত সিএনজি চালকের মরদেহ উদ্ধার করে চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি দ্রুত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং জব্দকৃত যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সাথে পলাতক বাস চালক ও হেলপারকে আটকে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।