ট্রাম্পের গ্রিড হামলার হুমকির পাল্টা খেলা! লোহিত সাগরে কী করতে যাচ্ছে হুথিরা?
ফটো: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো বা পাওয়ার গ্রিড লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে লোহিত সাগরের তেল পরিবহনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে তেহরান।
গত বৃহস্পতিবার উচ্চপর্যায়ের অন্তত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে চরম ও নজিরবিহীন সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে ইরানের নীতিনির্ধারক মহলে বিস্তারিত আলোচনা শেষে তাদের মিত্র গোষ্ঠী হুথিদের কাছে এই বার্তা পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা চালানোর যে হুমকি দিয়েছিলেন, মূলত তার পরপরই এই কঠোর বার্তা পাঠানো হয়।
হুথিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, ইয়েমেনের হোদাইদাহ ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল এবং লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় ইতিমধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করেছে হুথিরা। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তারা কেবল তেহরানের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে। ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রতিনিধিরা এই প্রণালি বন্ধ করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায়, লোহিত সাগরেও তেল পরিবহন রুট অবরুদ্ধ হলে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান দুটি জ্বালানি রপ্তানি রুট একযোগে সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়বে। এটি বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকটকে মারাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যাবে।
এদিকে, নিজেদের নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে বোমাবর্ষণের জন্য রিয়াদকে দায়ী করে সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা, যার মাধ্যমে দুই পক্ষের চার বছরের যুদ্ধবিরতিও ভেঙে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক তরবজর্ন সলভড মনে করেন, লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেল রপ্তানির একমাত্র বিকল্প পথটিও বন্ধ হয়ে যাবে। রিয়াদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরান ও হুথিদের পক্ষ থেকে আসা এই হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সৌদি আরব।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে গত জুনে দুই পক্ষের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলের উত্তেজনা ক্রমশ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাচ্ছে।
সূত্রঃ রয়টার্স