ইরানে আজ রাতেই ‘ভয়াবহ’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টড়াম্প | ফটো: সংগৃহীত
দুই দেশের মধ্যকার চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানে আবারও অত্যন্ত কঠিন সামরিক আঘাত হানার তীব্র হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের আঙ্কারায় চলমান ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই নতুন পদক্ষেপের কথা জানান। এ সময় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অত্যন্ত নেতিবাচক ও খারাপ আচরণ করছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প।
ন্যাটো সম্মেলনের সাইডলাইনে বিশ্বনেতা ও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, গত রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর হামলা চালিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আজ রাতেও দেশটির ওপর আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে। ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আজ রাতেই ওয়াশিংটন তাদের ওপর খুব শক্তভাবে আঘাত হানতে যাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন বাহিনী চাইলে আজ রাতেই ইরানের বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করার পাশাপাশি দেশটির বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। এমনকি প্রয়োজনে ইরানের তেলসমৃদ্ধ ‘খার্গ দ্বীপের’ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি, তবে এখনই চূড়ান্ত বা চরম কোনো পদক্ষেপ নিতে চান না বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
চলমান এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার লক্ষ্যকে সামনে এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সমস্ত বিষয়ে একমত হওয়ার পরও ইরানি প্রতিনিধিরা পরবর্তী সময়ে সংবাদ সম্মেলনে গিয়ে আলোচনার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। ইরানি নেতৃত্বকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে তারা মধ্যপ্রাচ্যের ত্রাস ছিল, কিন্তু তারা আর সেই অবস্থানে নেই। ওয়াশিংটনের চাওয়া অত্যন্ত পরিষ্কার এবং তা হলো ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
মূলত হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে এই সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করে এবং দেশটির বন্দর আব্বাস, সিরিক ও কেশম দ্বীপে বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়। জবাবে ইরানও বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এই পাল্টাপাল্টি হামলার পর দুই দেশের মধ্যকার চার মাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে, যা বর্তমানে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আবারও একটি ভয়াবহ ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।