আনোয়ারা বাঁশখালীর বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সেনাবাহিনী
অভিযানকালে সেনাসদস্যরা পানিবন্দী দুর্গত মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী পৌঁছে দেন।
ফটো: সংগৃহীত
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা আনোয়ারা ও বাঁশখালীর দুর্গম বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবন্দী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
গত রবি ও সোমবার (১২ ও ১৩ জুলাই) দিনব্যাপী সেনাবাহিনীর ৭ স্বতন্ত্র এডি ব্রিগেডের একটি ইউনিট ও ১০ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা স্পিডবোট ও ট্রলারযোগে দুর্গম অঞ্চলগুলোতে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
অভিযানকালে সেনাসদস্যরা পানিবন্দী দুর্গত মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী পৌঁছে দেন। এ সময় ত্রাণ বিতরণে শিশু, নারী ও প্রবীণদের বিশেষ চাহিদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরা দুর্গতদের সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং মনোযোগ দিয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে বিপদে পড়া সাধারণ মানুষদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের লজিস্টিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তারা।
আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যাওয়া দুর্গম এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে তারা চরম পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক পরিবারে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছিল। এমন কঠিন মুহূর্তে সেনাবাহিনীর এই দ্রুত মানবিক সহায়তা তাদের মাঝে স্বস্তি ও আশার আলো এনে দিয়েছে।
এই মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে দায়িত্বরত এক সেনা কর্মকর্তা জানান, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় দেশবাসীর পাশে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে চালিয়া যাওয়া হবে।