তালাকের পরও মেটেনি ক্ষোভ! সাবেক স্ত্রীর গোপন ভিডিও ছড়ানো কে এই নাঈম?
বৈবাহিক জীবনেও নাঈম উদ্দিন তাঁর স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করাসহ নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলেও সাবেক স্ত্রীকে লক্ষ্য করে এই অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে সামাজিক হেয়প্রতিপন্ন করা অব্যাহত রাখেন।
গ্রেফতারকৃত নাঈম উদ্দীন | ফটো: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় সাবেক স্ত্রীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে নাঈম উদ্দিন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার দৌলতপুর ফাজিল খাঁর হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত নাঈম উদ্দিন কর্ণফুলী থানার দৌলতপুর ফুলতলা এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত বশির আহমদের ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদ হওয়ার পরও নাঈম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সাবেক স্ত্রীর নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি পরিচালনা করে আসছিলেন। ওই আইডি থেকে বিভিন্ন সময় মানহানিকর পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল ও নিয়মিত হয়রানি করতেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈবাহিক জীবনেও নাঈম উদ্দিন তাঁর স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করাসহ নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করলেও সাবেক স্ত্রীকে লক্ষ্য করে এই অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে সামাজিক হেয়প্রতিপন্ন করা অব্যাহত রাখেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশের পর গত ৬ জুলাই কর্ণফুলী থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হয়। ওই মামলার সূত্র ধরেই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে নাঈম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নাঈম উদ্দিনকে শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত রবিবার (১২ জুলাই) তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।