ব্রেকিং
বরুমচড়ায় বন্যায় নিহত শিশুর পরিবারের পাশে জামায়াত আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান আনোয়ারায় বালু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যঃ ভাঙছে নদীর পাড়, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের ঘর-বাড়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ী সংস্কার ও মাছচাষীদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতের জনগণের কল্যাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছিঃ সরওয়ার জামাল নিজাম আনোয়ারায় ৩৮৯৮ পিস ইয়াবাসহ দুইজন আটক সাইফুজ্জামানের গুলশানের ২ ফ্ল্যাটে দুদকের অভিযান, মালামালের তালিকা করতে লাগবে ৩ দিন কর্ণফুলীতে বাস-ট্রাক-সিএনজির ত্রিমুখী সংঘাত, সিএনজি চালক নিহত ইস্টবেকারসহ ৩ খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি সাবেক মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার জুলাই শহীদ দিবসে বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতির গভীর শ্রদ্ধা বরুমচড়ায় বন্যায় নিহত শিশুর পরিবারের পাশে জামায়াত আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান আনোয়ারায় বালু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যঃ ভাঙছে নদীর পাড়, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষের ঘর-বাড়ী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘর-বাড়ী সংস্কার ও মাছচাষীদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতের জনগণের কল্যাণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছিঃ সরওয়ার জামাল নিজাম আনোয়ারায় ৩৮৯৮ পিস ইয়াবাসহ দুইজন আটক সাইফুজ্জামানের গুলশানের ২ ফ্ল্যাটে দুদকের অভিযান, মালামালের তালিকা করতে লাগবে ৩ দিন কর্ণফুলীতে বাস-ট্রাক-সিএনজির ত্রিমুখী সংঘাত, সিএনজি চালক নিহত ইস্টবেকারসহ ৩ খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার পলাতক আসামি সাবেক মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার জুলাই শহীদ দিবসে বীর শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতির গভীর শ্রদ্ধা
মতামত

আদর্শিক বিশুদ্ধতার বয়ান ও রাজনৈতিক বাস্তবতাঃ জামায়াত কি নিজের পাতা ফাঁদেই বন্দি?

সাইফুল ইসলাম সাইফ ২২ জুলাই ২০২৬ সকাল ৮:২৭ সময়

দ্বিতীয় এবং বাস্তব পথটি হলো, একটি আধুনিক বুর্জোয়া উদার রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়া; যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে উঁকি মারা বা সমাজকে নৈতিকতার সবক দেওয়ার আলাপ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

আদর্শিক বিশুদ্ধতার বয়ান ও রাজনৈতিক বাস্তবতাঃ জামায়াত কি নিজের পাতা ফাঁদেই বন্দি?

ফটো: কোলাজঃ প্রিয় আনোয়ারা

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সাম্প্রতিক বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে যে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা এবং 'ছিঃ ছিঃ' রব উঠেছে, তার কারণ কেবল ঘটনাটি নিজে নয়। রাজনীতির মাঠে অন্য যেকোনো দলের নেতার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটলে হয়তো প্রতিক্রিয়া এত তীব্র হতো না। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। কারণটা লুকিয়ে আছে দলটির বহু বছর ধরে গড়ে তোলা নিজস্ব ব্র্যান্ডিং এবং 'নৈতিকতার একচ্ছত্র ঠিকাদারি'র বয়ানের ভেতর।

দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত নিজেদের কর্মীদের সৎ, আদর্শবান ও নৈতিকতার চূড়ান্ত প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করে এসেছে। মতাদর্শ কিংবা ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক থাকলেও, ‘জামায়াতের লোকেরা অন্তত ব্যক্তিগতভাবে সৎ ও চরিত্রবান’ এমন একটি বয়ান তারা জনমানসে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছিল।

একটি ছোট ও বদ্ধ আদর্শিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ দল হিসেবে এতদিন তারা এই 'ব্র্যান্ড ইমেজ' টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াত যখন আকস্মিকভাবে একটি বড় ও মূলধারার রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নিল, তখনই বাঁধল আসল বিপত্তি।

জামায়াত এতদিন কাঁচের ঘরে বসে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে- বিএনপি, আওয়ামী লীগ, এনসিপি কিংবা বামপন্থিদের অসৎ, দুর্নীতিবাজ ও দুশ্চরিত্র বলে ট্যাগ দিয়েছে। কোনটি ভালো আর কোনটি খারাপ, তার একধরনের 'স্ট্যান্ডার্ড' বা মাপকাঠিও সমাজকে শেখাতে চেয়েছে তারা। কিন্তু দলটির নেতৃত্ব হয়তো অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে যে, তাদের নেতাকর্মীরা আসমান বা মঙ্গলগ্রহ থেকে আসা কোনো অলৌকিক জীব নন; তারা এই সাধারণ সামাজিক কাঠামোরই অংশ।

বিষয়টি বিপণনবিদ্যার দৃষ্টিতে দেখলে আরও স্পষ্ট হয়। সাধারণ কোনো ব্র্যান্ডের পণ্যে সামান্য ত্রুটি থাকলে গ্রাহক যতটা ছাড় দেয়, 'অ্যাপল'-এর মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের স্টোরে নকল বা ত্রুটিপূর্ণ ফোন ধরা পড়লে প্রতিক্রিয়া হয় তার চেয়ে শতগুণ বেশি। মানুষ তখন কেবল পণ্যটি ফেলে দেয় না, ব্র্যান্ডের দেমাগ নিয়েও প্রশ্ন তোলে। জামায়াত নিজেকে রাজনীতিতে সেই ‘প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড’ হিসেবে জাহির করেছিল বলেই আজ তাদের সামান্য বিচ্যুতিতে এত বড় ধস নামছে।

ঘটনাটির গভীরে গেলে দেখা যায়, গোপনে কিংবা অসময়ে বিয়ে করা কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়; বড়জোর এটি একটি পারিবারিক বা ব্যক্তিগত অনৈতিকতার বিষয় হতে পারে। কিন্তু বিতর্কটি তৈরি হয়েছে জামায়াতের নিজস্ব রাজনীতির কারণেই। ইসলামি অনুশাসন অনুযায়ী বিয়ে গোপন না রেখে প্রচার করা এবং আনন্দ ভাগ করে নেওয়া সুন্নাহ। যে দল প্রতিনিয়ত সুন্নাহ ও ইসলামি আদশের কথা বলে রাজনীতি করে, তাদেরই একজন তিনবারের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা যখন সেই অনুশাসন ভঙ্গ করে বিয়ে গোপন করার নানা অজুহাত দাঁড় করান, তখন তা সাধারণ মানুষের চোখে কেবল ভুল থাকে না, নৈতিক অপরাধে পরিণত হয়। এখানে 'আপনি আচারি ধর্ম পরকে শেখাও'-এর নৈতিক দায়বদ্ধতাই জামায়াতের জন্য সবচেয়ে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্বিতীয়ত আসে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের প্রশ্ন। রাজনৈতিক ও সামাজিক ময়দানে জামায়াতসহ ইসলামপন্থিরা দীর্ঘদিন ধরে একধরনের 'মোরাল পুলিশিং' বা নৈতিক পাহাদারি চালিয়ে এসেছে। হোটেলে অভিযান চালানো, সাধারণ মেলামেশার বিরোধিতা করা কিংবা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে কে কী করছে তা নিয়ে সবক দেওয়া এসব ছিল তাদের রাজনীতির অন্যতম অনুষঙ্গ। ফলে নিজেদের শীর্ষ নেতার বিতর্কিত দৃশ্য যখন জনসমক্ষে আসে, তখন তারা আর ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তার’ দোহাই দিয়ে পার পান না। অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে যারা প্রতিনিয়ত অস্বীকার করে, তারা নিজেরা আক্রান্ত হলে সমাজ সেই অধিকার তাদের দেয় না।

জামায়াত এখন আর কোনো বন্দি শিবিরের ভেতরে থাকা সীমিত দলের রাজনীতি করছে না, তারা মূলধারার রাজনীতিতে অবস্থান নিয়েছে। ভবিষ্যতে দলটির পরিধি যত বাড়বে, নতুন নতুন লোক দলে ভিড়বে, তত বেশি সাধারণ মানুষের এই সহজাত ভুলত্রুটি ও প্রবৃত্তি পাবলিক ডোমেনে আসবে। এই ‘সততার একচ্ছত্র বয়ান’ আঁকড়ে ধরে জামায়াত বেশি দূর যেতে পারবে না; বরং কয়েকদিন পর পর এমন ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে উন্মোচিত হতে থাকলে তাদের তথাকথিত 'সততার ন্যারেটিভই' দলটির পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এই রাজনৈতিক সংকট থেকে বের হতে জামায়াতের সামনে দুটি পথ খোলা আছে। প্রথমত, আবারও আগের মতো একটি ছোট, ক্যাডারভিত্তিক বন্ধ গণ্ডির আদর্শিক দল হয়ে যাওয়া, যেখানে সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবন কঠোর নজরদারিতে রাখা সম্ভব।

অথবা দ্বিতীয় এবং বাস্তব পথটি হলো, একটি আধুনিক বুর্জোয়া উদার রাজনৈতিক দলে পরিণত হওয়া; যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে উঁকি মারা বা সমাজকে নৈতিকতার সবক দেওয়ার আলাপ চিরতরে বন্ধ করতে হবে।

জার্মানির ‘ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন’ (CDU)-এর মতো ধর্মভিত্তিক মূল্যবোধকে ব্যাকগ্রাউন্ডে রেখে আধুনিক মূলধারার ব্যবহারিক রাজনীতি চর্চ করাই হতে পারে

জামায়াতের টিকে থাকার একমাত্র পথ। অন্যথায়, নিজের তৈরি করা নৈতিকতার ফ্রেমে বন্দি হয়ে বারবার আত্মঘাতী হওয়ার এই মিছিল থামানো যাবে না।

ট্যাগ: #বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
* চিহ্নিত তথ্য আবশ্যক। অশালীন মন্তব্য মুছে দেওয়া হবে।