আনোয়ারার চাঞ্চল্যকর সাজ্জাদ হত্যা মামলার আরেক আসামী গ্রেফতার
চক্রের কোনো সদস্য ধরা পড়লে তাদের জামিনে বের করে এনে পুনরায় অপরাধে লিপ্ত করার পেছনেও এই বশরের হাত ছিল।
ফটো: সংগৃহিত
আনোয়ারার তরুণ সিএনজি চালক সাজ্জাদ হত্যা মামলার তদন্তে আরও এক বড় সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা চোরাই সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল হোতা এস এম আবুল বশর (৪৮) কে এবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ মে) গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরের জহুর হকার্স মার্কেট এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে আনোয়ারা থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আবুল বশর চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চরতী ইউনিয়নের উত্তর তুলাতলী (মীর বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা।
এই ক্লুলেস মার্ডার কেসের জট খুলতে গিয়ে পুলিশ এক ভয়ংকর অপরাধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে। পুলিশ জানায়, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে নিজের অটোরিকশাটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি ২২ বছরের তরুণ সাজ্জাদ। নিখোঁজের দুই দিন পর, ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে আনোয়ারার বরুমছড়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন একটি ফিশারির পুকুরপাড় থেকে তাঁর অর্ধগলিত ও বীভৎস মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই নৃশংস ঘটনায় সাজ্জাদের বাবা নাছির ড্রাইভার বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশী জালে একে একে ধরা পড়তে থাকে খুনিরা। এর আগে সরাসরি কিলিং মিশনে জড়িত ৭ জন এবং ছিনতাই হওয়া গাড়ি কেনার অপরাধে একজনসহ মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে ৩ জন আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
বশরকে নিয়ে এই মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল ৯ জনে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বশরের অবস্থান নিশ্চিত করে এই অভিযান চালানো হয়। এই বশর মূলত চট্টগ্রামজুড়ে সক্রিয় গাড়ি চোর ও ছিনতাই চক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। ছিনতাইকারীরা চালকদের খুন করে বা মারধর করে যে সিএনজিগুলো আনত, বশর সেগুলো পানির দামে কিনে নিতেন। পরে নিজের গোপন আস্তানায় গাড়ির রং, চেসিস নম্বর ও রূপ বদলে দিয়ে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করে দিতেন।
শুধু তাই নয়, চক্রের কোনো সদস্য ধরা পড়লে তাদের জামিনে বের করে এনে পুনরায় অপরাধে লিপ্ত করার পেছনেও এই বশরের হাত ছিল।
অভিযানের বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “সাজ্জাদ হত্যাকাণ্ডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো চেইনটি ভাঙতে আমাদের টিম কাজ করছে। সেই ধারাবাহিকতায় ছিনতাই হওয়া গাড়ি চক্রের অন্যতম হোতা আবুল বশরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই চক্রের শিকড় কতদূর তা নিশ্চিত করতে আমাদের তদন্ত ও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।”