আনোয়ারার গৃহবধূ মুন্নির রহস্যজনক মৃত্যু; চকবাজার থেকে গ্রেফতার ঘাতক স্বামী
গত ১০ মে ভোরে মিজানুর রহমান মুন্নির পরিবারকে আত্মহত্যার খবর দেন। তবে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের টিনের চালের বিমের সঙ্গে মুন্নির মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখলেও তার পা মাটির সাথে লেগে ছিল।
অভিযুক্ত মুন্নীর স্বামী মিজানুর রহমান | ফটো: সংগৃহিত
আনোয়ারা উপজেলার বটতলী ইউনিয়নে গৃহবধূ হালিমা আক্তার মুন্নির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি ও নিহতের স্বামী মো. মিজানুর রহমানকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার আধুনিক চক সুপার মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা দায়েরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আসামিকে আইনের আওতায় আনল র্যাব।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর আনোয়ারার বটতলী ইউনিয়নের বরৈয়া গ্রামের মিজানুর রহমানের সাথে রায়পুর ইউনিয়নের হালিমা আক্তার মুন্নির বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দেড় বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে।
মুন্নির পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকসহ বিভিন্ন অজুহাতে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তারা কিছুদিন আলাদা ভাড়া বাসায় থাকলেও সম্প্রতি শ্বশুরের অসুস্থতার কথা বলে মুন্নিকে পুনরায় শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
গত ১০ মে ভোরে মিজানুর রহমান মুন্নির পরিবারকে আত্মহত্যার খবর দেন। তবে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের টিনের চালের বিমের সঙ্গে মুন্নির মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখলেও তার পা মাটির সাথে লেগে ছিল। এছাড়া মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও আঘাতের চিহ্ন দেখে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে পরিবার। ঘটনার পর থেকেই মিজানুরসহ তার পরিবারের সবাই এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন।
ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, মামলার পর থেকেই র্যাব আসামির অবস্থান শনাক্তে নজরদারি শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মিজানুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আনোয়ারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে এই ঘটনায় পরিবারের পলায়ন এবং শরীরের আঘাতের চিহ্ন নিয়ে জনমনে যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল, প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।