আনোয়ারায় ৩য় শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণঃ রাউজান থেকে ১ জন গ্রেফতার
গ্রেফতারকৃত আসামী ফারুক | ফটো: সংগৃহীত
আনোয়ারা উপজেলায় দেশজুড়ে আলোচিত তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে আনোয়ারা থানা পুলিশ।
আটককৃত আসামির নাম মোহাম্মদ ফারুক (২৪)। সে উপজেলার ৩ নং রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা হাড়িয়া পাড়ার আজিজুল হকের পুত্র।
গত ৩১ মে মধ্যরাতে আনোয়ারা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রাউজান থানাধীন পাহাড়তলী মহামুনি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ এপ্রিল আনোয়ারার রায়পুর গাউছিয়া হাশেমিয়া আলীম মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ওই ছাত্রী তার খালার বাড়িতে বেড়াতে যায়। ওই দিন রাতে অন্য এক খালাতো বোনের বাড়িতে যাওয়ার পথে স্থানীয় একটি মুদি দোকানের সামনে পৌঁছালে, দোকানদার আবু তাহের শিশুটির মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক নিজের দোকানের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করেন।
পরবর্তীতে এই ঘটনাটি স্থানীয় আরও তিনজন জানতে পেরে দোকানদার আবু তাহেরকে ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে তাদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য করে। এরপর ওই তিনজন মিলে শিশুটিকে একটি নির্জন বিলে নিয়ে গিয়ে পাশবিকভাবে গণধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি কাউকে না জানানোর হুমকি দিয়ে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।
লোমহর্ষক এই ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে ঘটনার সাথে জড়িত চারজনের নাম উল্লেখ করে আনোয়ারা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া আসামি ফারুক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই চাঞ্চল্যকর ও নির্মম গণধর্ষণের ঘটনায় নিজের সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে।
এই বিষয়ে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "আলোচিত এই শিশু গণধর্ষণ মামলার অন্যতম প্রধান আসামিকে আমরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় রাউজান থেকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হবে।" মামলার বাকি আসামিদের গ্রেফতারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।