আনোয়ারায় সেচ কাজে সাশ্রয়ী সোলার পাম্প
কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, আগে প্রতি কানি জমিতে সেচ বাবদ যেখানে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা ব্যয় হতো, সোলার পাম্পের কল্যাণে এখন তা কমে মাত্র ১৬০০ টাকায় নেমে এসেছে।
আনোয়ারায় সেচ কাজে সাশ্রয়ী সোলার পাম্প | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
তীব্র জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের এই সময়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কৃষকদের কাছে নতুন আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে সৌরবিদ্যুৎচালিত ‘সোলার সেচ পাম্প’। ডিজেল ও বিদ্যুৎ ছাড়াই পরিবেশবান্ধব এই পদ্ধতিতে সেচ সুবিধা পাওয়ায় চাষাবাদের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা স্থানীয় কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাইলধর ও পরৈকোড়া ইউনিয়নে ১.৫ কিউসেক ক্ষমতার দুটি সোলার এলএলপি (LLP) সেচ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাইলধর ইউনিয়নের প্রকল্পটি ইতোমধ্যে সফলভাবে চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকরা। পরৈকোড়া ইউনিয়নের প্রকল্পটি চালু হলে আরও সমপরিমাণ জমি এই সুবিধার আওতায় আসবে।
হাইলধর প্রকল্পের পরিচালক জানান, এই পাম্পে ডিজেল কেনা বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সরাসরি সূর্যের আলো ব্যবহার করে সেচ কার্যক্রম চলে। হাইলধর এলাকার কৃষক সাইফুল ইসলাম জানান, আগে প্রতি কানি জমিতে সেচ বাবদ যেখানে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা ব্যয় হতো, সোলার পাম্পের কল্যাণে এখন তা কমে মাত্র ১৬০০ টাকায় নেমে এসেছে।
এ বিষয়ে বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আজমানুর রহমান বলেন, "আনোয়ারায় বর্তমানে দুটি সোলার সেচ পাম্প স্থাপনের কাজ চলছে, যার একটি চালু হয়েছে এবং অন্যটি প্রক্রিয়াধীন। সেচ খরচ কমিয়ে কৃষিকে লাভজনক করতে ভবিষ্যতে উপজেলাজুড়ে আরও সোলার পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।"
পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এই সেচ ব্যবস্থা আনোয়ারার কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।