বৈরাগে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ
নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন শাহ্ অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও ননদ লিলিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন।
বৈরাগে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
বৈরাগ ইউনিয়নে লিলি আকতার (২৮) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, শাশুড়ি ও ননদ মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দর এলাকার বোচা তালুকদারের বাড়ি থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত লিলি আকতার ওই এলাকার সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রেজিয়া সুলতানার ছেলে মো. মহিউদ্দিনের স্ত্রী। তিনি একই ইউনিয়নের উত্তর গুয়াপঞ্চক শাহ্ বাড়ির মৃত কামাল উদ্দিন শাহ্-এর মেয়ে। ৯ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী মো. মহিউদ্দিনকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। কর্ণফুলী থানার বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আবদুল্লাহ্ আল নোমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই মোহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন শাহ্ অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও ননদ লিলিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতে স্বামী মহিউদ্দিন তাকে ফোন করে বোনকে নিয়ে যেতে বলেন, অন্যথায় মেরে ফেলার হুমকি দেন। সকালে তারা খবর পান লিলি আত্মহত্যা করেছেন। পারভেজ আরও বলেন, "আমি এসে দেখি বোনের লাশ খাটে শোয়ানো। ঝুলন্ত অবস্থা থেকে কে নামাল, সে বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।"
অভিযোগ অস্বীকার করে নিহত গৃহবধূর ননদ মর্জিনা সুলতানা দাবি করেন, ভাবির জেদ বেশি ছিল, তবে তাদের সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। শাশুড়ি রেজিয়া সুলতানা বলেন, রাতে সামান্য ঝগড়ার পর লিলি নিচতলায় একা ছিলেন। সকালে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। স্বামী মহিউদ্দিন জানান, বাসা পরিবর্তন নিয়ে ঝগড়া হওয়ায় তিনি সন্তানদের নিয়ে দোতলায় ঘুমাতে গিয়েছিলেন।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।