চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে মাদক মামলার আসামী; তৃণমূল নেতাদের ক্ষোভ!
কমিটি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন পদপ্রত্যাশী ছাত্রদলের নেতা ও তৃণমূলের কর্মীরা কমিটি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেনা। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে গত ১৩ মে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের বর্ধিত নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
কিন্তু কমিটি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন পদপ্রত্যাশী ছাত্রদলের নেতা ও তৃণমূলের কর্মীরা কমিটি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে প্রিয় আনোয়ারা ১৪ মে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছিল। এখানে এখানে ক্লিক করুন।
তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই সংগঠনটির অভ্যন্তরে যুগ্ম আহবায়ক পদে মাদক মামলার আসামী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ এই মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের বাসিন্দা, আমিনুল ইসলাম মনার ছেলে আরিফুল ইসলামকে সদ্য ঘোষিত বর্ধিত কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়। তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা গুরুতর অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে মাদক-সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ ও মামলা থাকা সত্ত্বেও কোনো যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাঁকে সংগঠনের এমন গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরিফুল ইসলামের এই রহস্যজনক পদায়নের পেছনে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবির বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রায় ২ লাখ টাকার বিনিময়ে তিনি আরিফুল ইসলামকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে প্রিয় আনোয়ারা এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এই পদ বাণিজ্যের বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, "যদি এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তবে তা অবশ্যই একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত।"
অনুসন্ধানে জানা যায়, নবগঠিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পাওয়া আরিফুল ইসলাম ২০১৯ সালে কর্ণফুলী থানায় দায়ের হওয়া একটি মাদক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। সে সময় মাদক কারবার ও সেবনের অভিযোগে জনতার হাতে আটক হওয়া চারজনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছিল, যাদের কাছ থেকে ৩০০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া আরও একটি মামলায় তাঁর নাম আসে, যদিও পরবর্তী সময়ে পুলিশ ওই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে তিনি অব্যাহতি পান।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, "মাদকসহ দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন আরিফুল। এর মধ্যে একটি মামলায় পরবর্তীকালে তিনি অব্যাহতি পেয়েছেন।"
নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া এক সদস্য নাম না প্রকাশ করার শর্তে প্রিয় আনোয়ারাকে জানান, 'কমিটিতে আমাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। যাকে যুগ্ন আহবায়ক করা হয়েছে সে সার্টিফিকেট দেখাতে পারবেনা। একজন অছাত্র!'
এই বিতর্কের বিষয়ে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নুর শাহেদ খান রিপন প্রিয় আনোয়ারাকে বলেন, "আমি যেহেতু একই আহবায়ক কমিটির দপ্তর সম্পাদক, সেহেতু একই কমিটির একজন যুগ্ন আহবায়ক মনোনীত হওয়া সদস্যকে নিয়ে মন্তব্য করার এখতিয়ার রাখিনা ।"
এদিকে, পুরো বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল হোসেন রবি এবং মূল অভিযুক্ত যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।