চট্টগ্রামে অপরিচিত লিংকে ক্লিক করতেই সাড়ে ৩ লাখ টাকা গায়েব!
ফটো: সংগৃহিত
চট্টগ্রামে অভিনব কায়দায় স্পাইওয়্যার অ্যাপ ব্যবহার করে এক ব্যক্তির ব্যাংক ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্রেফ একটি অজ্ঞাত লিংকে ক্লিক করার মাধ্যমে হ্যাকারদের কবলে পড়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা হারিয়েছেন বাকলিয়া এলাকার এক বাসিন্দা। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনাল পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট 'অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট'কে (এটিইউ) গভীর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ৫ মে চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা সুলতান নাসির আলমের মোবাইলে একটি অপরিচিত লিংক আসে। তিনি ওই লিংকে ক্লিক করার সাথে সাথেই ‘AYODATE’ নামক একটি ক্ষতিকারক ম্যালওয়্যার অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর ফোনে ইনস্টল হয়ে যায়। এরপরই হ্যাকার চক্র ফোনটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে।
পরবর্তীতে হ্যাকাররা ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে বাদীর ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখা থেকে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৫০ টাকা এবং তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে লোন গ্রহণসহ মোট ৬২ হাজার ৬০০ টাকা সরিয়ে নেয়। সর্বমোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫০ টাকা জনৈক মোঃ রকিবুল খাঁ নামক এক ব্যক্তির পূবালী ব্যাংক হিসাব ও কয়েকটি বিকাশ নম্বরে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী সুলতান নাসির আলম বাদী হয়ে 'সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬'-এর ১৭, ১৮ ও ১৯ ধারায় চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা হ্যাকার ও প্রতারক চক্রকে আসামি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক কাজী মোঃ মিজানুর রহমান অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এটিইউ-কে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।
শুনানি শেষে মানবাধিকার আইনবিদ এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন:
"বর্তমানে হ্যাকাররা অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি ও স্পাইওয়্যার ব্যবহার করছে। অপরিচিত কোনো লিংকে ক্লিক করা বা অপরিচিত অ্যাপ ইনস্টল করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সচেতনতাই এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।"
মামলায় বাদীর পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট কে এম শান্তনু চৌধুরী ও এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আরমান।