চুলার ধোঁয়া নিয়ে বিরোধে বৃদ্ধ খুনঃ কর্ণফুলীতে দম্পতিসহ গ্রেফতার ৫
ইব্রাহিমের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী আলী আজগরের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
ফটো: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকায় রান্নাঘরের চুলার ধোঁয়া নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে সংঘর্ষে গুরুতর আহত ইব্রাহিম (৬০) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন।
শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ শিকলবাহা এলাকার তালতলা গ্রামের মৃত ইয়াকুবের ছেলে। তাঁর মৃত্যুর পর পূর্বের মামলাটিকে এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহিমের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী আলী আজগরের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
গত ২৩ মে সকালে ইব্রাহিমের রান্নাঘরের চুলার ধোঁয়া প্রতিবেশীর ঘরে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে নতুন করে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইব্রাহিমের পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ইব্রাহিম ও তাঁর স্ত্রী গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাঁদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে টানা ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর অবশেষে শুক্রবার ভোরে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন ইব্রাহিম।
এর আগে হামলার ঘটনার পর নিহতের ছেলে মো. তহিদুল ইসলাম আজাদ বাদী হয়ে ২৫ মে কর্ণফুলী থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
ঘটনার পর থেকেই তৎপরতা চালিয়ে পুলিশ এজাহারনামীয় প্রধান ৫ আসামিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আলী আজগর (৫০), তাঁর স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম (৪৩), দুই ছেলে আশ্রাফ আলী (২৫) ও তারেকুল ইসলাম তুষার (২৭) এবং নিশাত (২৮)।
কর্ণফুলী থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী মারা গেছেন, তাই নিয়মানুযায়ী পূর্বের মামলাটি এখন দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।