দেড় দশক পর আনোয়ারায় স্কাউট সমাবেশ
অংশগ্রহণকারীরা তাঁবুকলা, হাইকিং, কুচকাওয়াজ ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।
দেড় দশক পর আনোয়ারায় স্কাউট সমাবেশ | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
দীর্ঘ ১৫ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আবারও অনুষ্ঠিত হলো স্কাউট সমাবেশ। ‘যোগ্য নেতৃত্বের জন্য স্কাউটিং’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বরুমচড়া শহীদ বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গত ১০ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দিনব্যাপী এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ২০১১ সালে উপজেলার ৫ম স্কাউট সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আনোয়ারা উপজেলা স্কাউটসের আয়োজনে ও জাফর-আয়েশা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সমাবেশে উপজেলার ২২টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৮০ জন স্কাউট সদস্য ও ইউনিট লিডার অংশ নেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সনদ ও সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠ এই সমাবেশের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
উপজেলা স্কাউটস কমিশনার মোহাম্মদ ওসমান গণীর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাজনীন নিজাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মো. আবদুল মতিন চৌধুরী, কামরুদ্দিন চৌধুরী, জাফর-আয়েশা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন সিকদার এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির আনসারসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা স্কাউটস সম্পাদক সঞ্জিব সিংহ ও মোরাশেল। দ্বিতীয় পর্বের ‘মহা তাঁবু জলসা’ সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম জেলা স্কাউটস সম্পাদক মো. সেলিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাজনীন নিজাম বলেন, "স্কাউটিং কেবল একটি সহশিক্ষা কার্যক্রম নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে।" জাফর-আয়েশা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন সিকদার তার বক্তব্যে বলেন, "নেতৃত্বের প্রথম ধাপ হলো স্কাউটিং। ৫ দিনের এই শিক্ষা তোমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।"
সমাবেশের পাঁচ দিনে অংশগ্রহণকারীরা তাঁবুকলা, হাইকিং, কুচকাওয়াজ ও উদ্ধার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতামূলক এই আয়োজনে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে বখতিয়ার পাড়া চারপীর আউলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে স্বাগতিক বরুমচড়া শহীদ বশরুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় এবং তৃতীয় হয় সিইউএফ স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
সমাপনী দিনের ‘মহা তাঁবু জলসা’ ও ক্যাম্পফায়ারের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় পুরো মাঠ উৎসবের আমেজে রূপ নেয়। আয়োজকরা মনে করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর এমন প্রাণবন্ত আয়োজন স্থানীয় তরুণ প্রজন্মের মাঝে মানবিক গুণাবলি ও নেতৃত্ব বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।