কর্ণফুলী টানেলে গাছ না লাগিয়েই ৫০ কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
টানেলের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো গাছ পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রী | ফটো: সংগৃহিত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের বৃক্ষরোপণ খাতে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, প্রকল্পের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে গাছ লাগানোর জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কোনো গাছ লাগানো হয়নি, অথচ পুরো অর্থই উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এই তথ্য প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ৫ মে বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নূরুল ইসলাম ২০২১-২২ অর্থবছরের ৩৮টি নিরীক্ষা প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছেন। সেই অডিট রিপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন: "অডিটর জেনারেলের তদন্তে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, টানেলের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো গাছ পাওয়া যায়নি।"
বৃক্ষরোপণ ছাড়াও টানেল প্রকল্পের অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, টানেলের অপর প্রান্তে কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে অত্যন্ত বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যার কোনো বাস্তব প্রয়োজনীয়তা ছিল না। এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পদ্মা সেতু প্রকল্পেও ব্যাপক দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার প্রায় প্রতিটি খাতকে ভঙ্গুর অবস্থায় পেয়েছে। একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ যেভাবে পরিচালিত হয়, সরকারকে বর্তমানে সেই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কাজ করতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এই তথ্যগুলো কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং দেশের নাগরিকদের সামনে প্রকৃত বাস্তবতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই প্রকাশ করা হচ্ছে।