কর্ণফুলীতে বিএনপি নেতার নিয়ন্ত্রণে সিএনজি অটোরিকশা টোকেন বাণিজ্য
সাধারণ চালক ও মালিকরা বিএনপি নেতার চাঁদাবাজির কারণে চরম আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
কর্ণফুলী মইজ্জারটেক | ফটো: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্যারটেক এলাকায় অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা থেকে টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিশাল চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের কার্যক্রম এবং এর সাথে জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।
মইজ্যারটেক এলাকার এই চাঁদাবাজি বাণিজ্যের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয়ভাবে ‘খুনি আবছার’ নামে পরিচিত বিএনপি নেতা আবছার এবং তার ছেলে নজিবুল হক শাওন।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই সিন্ডিকেট প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা এবং বছরে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এই চক্রে শাওন ছাড়াও হোসাইন, সেলিম ও টেম্পো সোলায়মান সক্রিয়ভাবে জড়িত, যাদের অনেকের বিরুদ্ধেই হত্যা, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির একাধিক মামলা রয়েছে।
একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) আবু সাঈদ বাকরকে প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ প্রশাসন ও কিছু সাংবাদিককে মাসোহারা বাবদ প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকারও বেশি ব্যয় করার একটি পরিকল্পনা সিন্ডিকেটটির রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে টিআই আবু সাঈদ বাকর এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি টোকেন বাণিজ্যের বিষয়ে শুনেছেন এবং এমপির নির্দেশে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।
মইজ্যারটেক এলাকার ৭টি ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিন দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও কক্সবাজার থেকে আসা প্রায় ২০ হাজার সিএনজি অটোরিকশা গ্যাস নিতে আসে। এসব গাড়ির অধিকাংশেরই বৈধ কাগজপত্র না থাকার সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে এই সিন্ডিকেট।
বর্তমানে বিভিন্ন রুট ভেদে মাসিক টোকেন ফি ২০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি প্রতিদিন ২০ টাকা করে ‘হাজিরা’ নেওয়া হচ্ছে, ফলে একজন চালককে মাসে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হচ্ছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর আলম ও তার ছেলের নির্দেশে একটি চক্র ১৭ বছর ধরে মইজ্যারটেকে চাঁদাবাজি পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা পালিয়ে গেলেও বর্তমানে আবছার ও তার ছেলে শাওনের নির্দেশে সেলিম গং নতুন করে টোকেন ও দৈনিক চাঁদা আদায় শুরু করেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই চক্রটি আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এনসিপি নেতা আব্দুল আউয়াল রানা এই বিপুল পরিমাণ টাকার গন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং প্রশাসনের নীরবতা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এনসিপি নেতা শাহিদুল ইসলাম সাহেদও সাংবাদিকদের সত্য তুলে ধরে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সাধারণ চালক ও মালিকরা এই চাঁদাবাজির কারণে চরম আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।