কর্ণফুলীতে পিকআপের ধাক্কাঃ কোচিংয়ে যাওয়ার পথে ঝরল স্কুলছাত্র সাদিকের প্রাণ
কিন্তু কে জানত, বেপরোয়া এক ঘাতক পিকআপের থাবা চিরতরে কেড়ে নেবে এই কোমল প্রাণটি!
ফটো: সংগৃহিত
মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে প্রতিদিনের মতোই বাইসাইকেল চেপে কোচিংয়ের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল ১৩ বছরের কিশোর মো. সাদিকুজ্জামান। কিন্তু কে জানত, বেপরোয়া এক ঘাতক পিকআপের থাবা চিরতরে কেড়ে নেবে এই কোমল প্রাণটি!
শুক্রবার (২২ মে) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের মিয়ারহাট সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
সাদিকুজ্জামান বড়উঠান ইউনিয়নের মৌলভি বাড়ির মরহুম জালাল উদ্দিনের সন্তান। সে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে নিজের বাইসাইকেলে চড়ে পড়ার টেবিলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল সাদিক। সে মিয়ারহাট সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মালবাহী পিকআপ ভ্যান তার সাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় সাদিক ছিটকে শক্ত পিচঢালা সড়কে পড়ে যায় এবং মাথায় ও শরীরে মারাত্মক আঘাত পায়।
স্থানীয় লোকজন ঘাতক পিকআপটি আটকানোর চেষ্টা করেন এবং গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় সাদিককে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মুহূর্তেই চমেক হাসপাতাল প্রাঙ্গণে উপস্থিত স্বজনদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী করে তোলে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম বলেন, “সকালে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় এক স্কুলছাত্র নিহতের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। চমেক হাসপাতালে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। ঘাতক গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।”