লালদীঘির মাঠে জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর শুরু
এ বছর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১২০ জন বলী নাম নিবন্ধন করেছেন।
লালদীঘির মাঠে জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর শুরু | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর আজ শনিবার। দুপুর ৩টায় চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘি মাঠে শুরু হবে জনপ্রিয় এই কুস্তি প্রতিযোগিতা। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত এই আয়োজনকে ঘিরে চট্টগ্রামসহ পুরো দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১২০ জন বলী নাম নিবন্ধন করেছেন। আজ সকাল থেকেই প্রতিযোগীরা লালদীঘি এলাকায় এসে উপস্থিত হচ্ছেন। এবারের আসরে আটজন সেরা বলীকে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল এবং চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। খেলা শেষে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বিজয়ীদের হাতে প্রাইজমানি ও ক্রেস্ট তুলে দেবেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান এবং বাংলালিংকের কর্মকর্তা সাঈদ হোসেন চৌধুরী।
বলীখেলার মূল আকর্ষণের পাশাপাশি লালদীঘি এলাকা ঘিরে বসেছে দেশের অন্যতম বৃহত্তম বৈশাখী মেলা। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই মেলায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, কুমিল্লাসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসেছেন তাদের পণ্যের পসরা নিয়ে।
মেলায় মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাঁশ ও বেতের আসবাব, শীতল পাটি, হাতপাখা, গৃহস্থালীর দা-বঁটি, মাছ ধরার পলো থেকে শুরু করে নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র ও গৃহসজ্জার সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিক্রেতারা জানান, এই মেলার জন্য তারা সারা বছর অপেক্ষা করেন এবং বরাবরের মতো এবারও ভালো বেচাকেনার আশা করছেন।
অতিরিক্ত ভীড় ও এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। লালদীঘি এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ টহল জোরদার করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ২৬ এপ্রিল ভোরে মেলা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯০৯ সালে বদরপাতি এলাকার আব্দুল জব্বার সওদাগর যুব সমাজকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করতে এই কুস্তি প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। সময়ের পরিক্রমায় এটি চট্টগ্রামের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।