অবশেষে আইয়ুব ফিরল লাশ হয়েঃ আনোয়ারায় অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে হারালেন জীবন ও স্বপ্ন
আইয়ুব আলীর পরিবারের যে শূন্যতা তৈরি হলো, তার দায়ভার কে নেবে?
অবশেষে আইয়ুব ফিরল লাশ হয়েঃ আনোয়ারায় অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে হারালেন জীবন ও স্বপ্ন | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসার আগে হয়তো তিনি ভেবেছিলেন, বাড়িতে ফেরার আগে আরেকটু ইনকাম। কিন্তু সেই শেষ যাত্রীবেশী ঘাতকেরা তার জীবন নামক চাকাটিকেই চিরতরে থামিয়ে দিল। আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে না ফেরার দেশে চলে যান ইজিবাইক চালক আইয়ুব আলী (৫০)।
আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আইয়ুব আলী ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্ত্রী, দুই ছেলে আর চার মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। ইজিবাইক চালিয়েই কোনোমতে টেনেটুনে চলছিল অভাবের সংসার। ২০ এপ্রিল দুপুরের যাত্রীর বেশে অজ্ঞান পার্টির ঘাতকেরাই যে তার কাল হয়ে দাঁড়াবে, তা কে জানত!
ছত্তারহাট বাজার থেকে তিনজন যাত্রী ওঠেন তার ইজিবাইকে। গন্তব্য ছিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা। হাসিখুশি আইয়ুব হয়তো তখন ভাবছিলেন দিনশেষে বাজারের ব্যাগ হাতে বাড়ির পথ ধরার কথা। কিন্তু যাত্রীবেশী ওই অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাকে অচেতন করে গাড়ি নিয়ে সটকে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালেও সহসা ফিরতে পারেননি তিনি।
নিহতের ভাতিজা মোহাম্মদ শওকত যখন কথাগুলো বলছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত মানুষগুলোর চোখেমুখে ছিল ক্ষোভ আর ঘৃণা। শওকত বলেন, "তারা শুধু গাড়িটা নিল না, চাচার জীবনটাই কেড়ে নিল। বিচার পাব কিনা জানিনা।'
আনোয়ারার সাধারণ মানুষের ভাষ্য, সিএনজি, ইজিবাইক (টমটম) এখন ছিনতাইকারীদের মূল টার্গেট। রাস্তায় যাত্রী তোলা মানেই এখন এক ধরনের আতংক। এর আগেও এই এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বারবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলেও আনোয়ারার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এখন জনমনে প্রচণ্ড সন্দেহ তৈরী হয়েছে।
আইয়ুব আলীর সেই ইজিবাইকটি এখন কোথায় আছে হয়তো জানা নেই কিন্তু তার ঘরের চুলায় যে হাঁড়ি বসত, সেই সংসারটি এখন ঘোর অন্ধকারে। ছয় সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আইয়ুব আলী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন। কিন্তু দয়ামায়াহীন ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে সেই লড়াইটা অসমাপ্তই থেকে গেল।
এদিকে আনোয়ারা থানা বলছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আদৌ নেওয়া হবে কিনা সেটা জানা না থাকলেও প্রশ্ন থেকেই যায়, আইয়ুব আলীর পরিবারের যে শূন্যতা তৈরি হলো, তার দায়ভার কে নেবে? অপরাধীরা ধরা পড়লে আইয়ুবের প্রাণ হয়তো ফিরবে না, কিন্তু অন্তত তার মতো আর কোনো চালককে যেন এভাবে যাত্রীবেশী ঘাতকদের হাতে প্রাণ না দিতে হয় সেটাই এখন এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি।