পেন্টাগনে ক্ষমতার দ্বন্দ্বঃ বরখাস্ত নৌমন্ত্রী জন ফেলান
পেন্টাগনের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে জন ফেলানের শীতল সম্পর্কের কারণেই এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পেন্টাগনে ক্ষমতার দ্বন্দ্বঃ বরখাস্ত নৌমন্ত্রী জন ফেলান | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের নৌমন্ত্রী (নেভি সেক্রেটারি) জন ফেলানকে অবিলম্বে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ার জেরে তাকে এই দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হলো। ফেলানের স্থলে আন্ডারসেক্রেটারি হাং কাও ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগনের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে জন ফেলানের শীতল সম্পর্কের কারণেই এই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফেলান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ট্রাম্পের নামে ‘ট্রাম্প-ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজ তৈরির ‘গোল্ডেন ফ্লিট’ প্রকল্পের প্রধান কারিগর ছিলেন।
সূত্র জানায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং উপ-প্রতিরক্ষা মন্ত্রী স্টিফেন ফেইনবার্গের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিলেন ফেলান। বিশেষ করে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি অনুযায়ী জেনারেল ও অ্যাডমিরালদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করে তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ যাচাই করার যে নির্দেশনা হেগসেথ দিয়েছিলেন, সেই ‘সংস্কৃতি যুদ্ধে’ ফেলান তাল মেলাতে পারছিলেন না। এর আগেও একই ধরনের বিরোধের জেরে আর্মি চিফ অব স্টাফ জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এমন এক সময়ে এই শীর্ষ রদবদল ঘটল, যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও হামলা-পাল্টাহামলা চলছে। এই সিদ্ধান্তকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করছেন বিরোধী ডেমোক্রেটরা। তাদের মতে, ট্রাম্পের এই খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের ফলে মাঝ সমুদ্রে মার্কিন নাবিকদের মনোবল ভেঙে পড়তে পারে। এছাড়া টমাহক মিসাইলের মজুদ বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তির যুদ্ধজাহাজ তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রকল্পগুলো এই রদবদলের কারণে বড় ধরনের বাধা ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।