মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিরতির ইঙ্গিতঃ যুক্তরাষ্ট্র অভিযান না চালালে হামলা করবে না ইরান
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের শাসক দলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
ফটো: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র যতদিন পর্যন্ত ইরানে তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখবে, ততদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে কোনো পাল্টা হামলা চালাবে না ইরান।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের শাসক দলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংঘাতের শুরু থেকেই তেহরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি মেনে চলছে। তাই ওয়াশিংটন আক্রমণ না চালালে ইরানও তাদের সামরিক অভিযান মুলতবি রাখবে এবং এসংক্রান্ত একটি স্পষ্ট বার্তা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, টানা ১৩ দিন প্রতি রাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পরস্পরের ওপর মুহুর্মুহু হামলা চালিয়ে আসছিল। তবে গত শনিবার এবং রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকোম) কিংবা ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী কেউই নতুন করে আক্রমণ চালায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মার্কিন বাহিনী এই সামরিক অভিযান শুরু করলেও যুদ্ধের বর্তমান পর্যায়ে সবচেয়ে বড় উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’।
যুদ্ধ শুরুর পরপরই বিশ্বে মোট উৎপাদিত জ্বালানির এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত এই হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ করে তেহরান, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পণ্যের বাজারে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
যেহেতু এটি তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত, তাই যেকোনো দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে এই প্রণালি ব্যবহার করতে হলে টোল বা মাশুল দিতে হবে বলে শর্ত দেয় ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলো এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে।
এই বিরোধের জের ধরে দুই সপ্তাহ আগে হরমুজ প্রণালিতে দুটি ট্যাংকার জাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ড্রোন হামলা চালায়, যার পরেই দুই পরাশক্তির মধ্যে গত ১৩ দিনের লাগাতার হামলা ও পাল্টাপাল্টি সংঘাত শুরু হয়।
সূত্রঃ রয়টার্স