পেস বোলারদের গতিতেই পাকিস্তানকে টপকে গেছে বাংলাদেশঃ ওয়াসিম আকরাম
পুরো সিরিজ জুড়ে শান মাসুদের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপকে যেভাবে তাসকিন আহমেদ আর নাহিদ রানারা নাকাল করেছেন, তা দেখে মুগ্ধ ক্রিকেটবিশ্ব।
ফটো: সংগৃহীত
পাকিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানকে টানা দ্বিতীয়বার টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই (হোয়াইটওয়াশ) করার অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ।
পুরো সিরিজ জুড়ে শান মাসুদের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপকে যেভাবে তাসকিন আহমেদ আর নাহিদ রানারা নাকাল করেছেন, তা দেখে মুগ্ধ ক্রিকেটবিশ্ব।
নাহিদ রানার এক্সপ্রেস গতি আর তাসকিনের সুইংয়ের সামনে স্বাগতিক ব্যাটারদের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার সুলতান অব সুইং ওয়াসিম আকরাম।
সদ্য সমাপ্ত এই দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানের মোট ১৮টি উইকেট একাই পকেটে পুরেছেন বাংলাদেশের পেসাররা। এর মধ্যে ঢাকা টেস্টে ১০টি এবং সিলেট টেস্টে সফরকারীদের ৮টি উইকেট উপড়ে ফেলেন রানা-তাসকিনরা।
তবে সিরিজের আসল লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছেন তরুণ গতিদানব নাহিদ রানা। দুই টেস্টে একাই ১১ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে ড্র হতে যাওয়া ম্যাচটিকে জয়ের বন্দরে ভেড়ান রানা। আর সিলেট টেস্টেও প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়ে নিজের জাত চেনান এই স্পিডস্টার।
একটা সময় ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস কিংবা শোয়েব আখতারদের গতি আর সুইংয়ের বিষে নীল হতো বিশ্বের বাঘা বাঘা সব ব্যাটাররা। কিন্তু সেই গৌরব এখন পাকিস্তানের জন্য অতীত স্মৃতি মাত্র। শাহিন শাহ আফ্রিদি বা হারিস রউফরা বর্তমান সময়ে চেষ্টা করলেও কিংবদন্তিদের সেই ধার ধারেকাছেও নেই। ঠিক উল্টো চিত্র বাংলাদেশের ক্রিকেটে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিট নিজেদের নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। আর ঠিক এই জায়গাতেই পাকিস্তানের বোলারদের চেয়ে টাইগার পেসারদের স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রাখছেন আকরাম।
ঐতিহাসিক এই সিরিজ জয়ের পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আবেগঘন এক পোস্টে ওয়াসিম আকরাম লিখেছেন, “পাকিস্তানের এমন হার দেখাটা অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে এর পুরো কৃতিত্ব বাংলাদেশের প্রাপ্য, তারা মাঠে দুর্দান্ত অলরাউন্ড ক্রিকেট খেলেছে। একটা সময় বাংলাদেশের উইকেট মানেই ছিল নিচু, ধীরগতির স্পিন ট্র্যাক। কিন্তু এখন তারা দারুণ স্পোর্টিং টেস্ট পিচ তৈরি করছে, যা তাদের গতিশীল পেসারদের উঠে আসতে সাহায্য করছে। আর সেই পেসাররাই এখন গতি ও পারফরম্যান্সে পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে।
যেকোনো বড় দলের সাথে টেক্কা দিতে বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। আর নাহিদ রানা তো এক জাদুকরী প্রতিভা, তাকে বল করতে দেখাটা সত্যিই অন্যরকম উপভোগ্য ছিল। অভিনন্দন বাংলাদেশ!”