২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়া বধ! মিরপুরে অজিদের স্তব্ধ করে দিল বাংলাদেশের কোন দুই নায়ক?
আজ মিরপুরে ইতিহাস রচনা বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। শক্তিশালী অষ্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় বার হারানো স্বাদ পেল টিম বাংলাদেশ!
ফটো: সংগৃহীত
টানটান উত্তেজনা আর দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে এক অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের টর্নেডো ইনিংস আর বল হাতে নাহিদ রানার বিধ্বংসী তাণ্ডবে দিশেহারা অস্ট্রেলিয়াকে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে শক্তিশালী অজিদের বিপক্ষে এটি লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০০৫ সালের ১৮ জুন কার্ডিফে মোহাম্মদ আশরাফুলের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরির ম্যাচে ৫ উইকেটে প্রথম জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ ২১ বছর এবং টানা ১৫টি ম্যাচের খরা কাটিয়ে অবশেষে ধরা দিল এই বহুল কাঙ্ক্ষিত ও স্মরণীয় জয়।
আজকের ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৮৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৫৭ এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭ রানের চমৎকার দুটি ইনিংস খেলে ভিত গড়ে দেন। তবে আসল ঝড়টি তোলেন দীর্ঘ চার বছর পর জাতীয় দলে ফেরা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওজি বোলারদের তুলোধুনা করে ৭০ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৮৬ রানের এক অনবদ্য ও অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি।
২৮৫ রানের টার্গেটে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের শুরু থেকেই চেপে ধরেন টাইগার বোলাররা। ব্যাট হাতে তাণ্ডব ছড়ানোর পর বল হাতেও দারুণ সফল ছিলেন মোসাদ্দেক; ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান দিয়ে শিকার করেন ২টি উইকেট।
তবে অজিদের ব্যাটিং লাইনে সবচেয়ে বড় ধস নামান গতিদানব নাহিদ রানা। তিনি মাত্র ৪১ রান খরচ করে তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ৪২.২ ওভারে যখন হঠাৎ বজ্রপাতের কারণে আম্পায়াররা খেলা বন্ধ করেন, তখন ওজিদের সংগ্রহ ছিল ৯ উইকেটে মাত্র ১৯১ রান।
জয় থেকে বাংলাদেশ মাত্র এক উইকেট দূরে থাকলেও প্রকৃতির বাধায় দীর্ঘ ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অবশেষে রাত ৮টায় মাঠ আম্পায়াররা বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশকে ৮৬ রানে জয়ী ঘোষণা করলে মিরপুরসহ পুরো দেশ মেতে ওঠে ঐতিহাসিক জয়ের উল্লাসে।
এই জয়ের ফলে দুই দলের মুখোমুখি ২২টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশের জয়ের সংখ্যা দাঁড়াল ২-এ।