আওয়ামী লীগেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সাকিব, ‘পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই’
তিনি জানান, রাজনৈতিক দলের রঙ বদলানোর অভ্যাস বা ইচ্ছা তার কোনো সময়ই ছিল না। যেকোনো ছোট দলের সাথে যুক্ত হলেও তিনি সবসময় অনুগত থেকেছেন।
পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাকিব আল হাসান | ফটো: সংগৃহিত
ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর পুরোপুরি রাজনীতিতে মনোনিবেশ করতে চান সাকিব আল হাসান। এ ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক আদর্শের জায়গায় একমাত্র পছন্দ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক এই অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তার দল পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং অতীতেও কখনো ছিল না। বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে থাকলেও, এই অবস্থা চিরকাল বজায় থাকবে না বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ইভেন্টে যোগ দিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক দলের রঙ বদলানোর অভ্যাস বা ইচ্ছা তার কোনো সময়ই ছিল না। যেকোনো ছোট দলের সাথে যুক্ত হলেও তিনি সবসময় অনুগত থেকেছেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব। তবে ওই বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় পরবর্তীতে আর দেশে ফিরতে পারেননি।
আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ৩৯ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার জানান, কোনো দলকে জোরপূর্বক দাবিয়ে রাখা শুভ লক্ষণ নয়।
"আজ হয়তো রাজনীতি নিষিদ্ধের পর্যায়ে আছে, কিন্তু তা আজীবন স্থায়ী হতে পারে না। কোনো দলকে জোর করে দীর্ঘদিন আটকে রাখা সম্ভব হলেও, তাতে দেশের বা রাজনীতির কোনো মঙ্গল হয় না। দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে এভাবে দমিয়ে রাখা যায় না।"
আগের সরকারের আমলে বিরোধী দলকে দমিয়ে রাখার প্রবণতা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে সাকিব ইতিবাচক পরিবর্তনের ওপর জোর দেন:
তিনি মনে করেন, অতীতে যদি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও কোনো ভুল হয়ে থাকে, তবে এখন অন্য কারও মাধ্যমে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হওয়া উচিত নয়। এই ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি অনন্তকাল চলতে পারে না।
যে দলই এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটাবে, দেশের মানুষ তাদেরই মনে রাখবে। সাকিবের মতে, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব দলের সমান সুযোগ থাকা উচিত, যেখানে জনগণ তাদের পছন্দ অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে।