চেতনানাশক প্রয়োগে চালক আইয়ুব আলীকে হত্যা; ‘গালকাটা জামাল'সহ গ্রেপ্তার ২
গত ২০ এপ্রিল শোলকাটা রাস্তার মোড় এলাকায় আইয়ুব আলীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
ফটো: সংগৃহিত
আনোয়ারা উপজেলার চাঞ্চল্যকর অটোরিকশাচালক আইয়ুব আলী (৫৫) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে বলে দাবী করে আনোয়ারা থানা। চেতনানাশক দ্রব্য খাইয়ে চালক আইয়ুবকে অচেতন করে তার গাড়ী গাড়ি ছিনতাই করার ঘটনায় জড়িত অপরাধী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অবশেষে আইয়ুব ফিরল লাশ হয়েঃ আনোয়ারায় অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে হারালেন জীবন ও স্বপ্ন!
সোমবার (১১ মে) ভোরে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া ও পটিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে আনোয়ারা থানা পুলিশ।
পুলিশ জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য মো. জামাল ওরফে গালকাটা জামাল (৫২) এবং মো. আব্দুল জব্বার (৩১)। গত ২০ এপ্রিল শোলকাটা রাস্তার মোড় এলাকায় আইয়ুব আলীকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেয় পুলিশ এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আইয়ুব আলী ভাড়াভিত্তিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। চক্রটি তাকে চেতনানাশক খাইয়ে অচেতন করে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তার জামালের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন থানায় চেতনানাশক প্রয়োগ করে ছিনতাই ও হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ৬ মে অটোরিকশার মালিক বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় হত্যা ও চুরির মামলা দায়ের করেন।
নিহত আইয়ুব আলীর ছেলে মো. শাহেদ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি এটা হত্যাকাণ্ড। চিকিৎসকরা বলেছিলেন কিছু খাইয়ে অচেতন করা হয়েছে। কিন্তু বাবার প্রাণটাই কেড়ে নেওয়া হলো।" তিনি গ্রেপ্তারকৃতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন।
আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা পেশাদার অপরাধী এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সোমবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।