চট্টগ্রামে ৯টি এলাকা হামের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিতঃ লক্ষণ নিয়ে ৩৫ শিশুর মৃত্যু
মার্চের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ৩৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে আইসিইউতে ১৫ জনসহ মোট ১৩০ জন শিশু সেখানে চিকিৎসাধীন।
ফটো: সংগৃহিত
সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চট্টগ্রামে নয়টি এলাকাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সোমবার (১১ মে) এসব এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ার ভিত্তিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এদিকে, চট্টগ্রামে হামের লক্ষণ নিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৫ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার (এসআইএমও) ডা. খাদিজা আহমেদ জানান, চট্টগ্রামের নয়টি ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এলাকাগুলো হলো, ২ নম্বর জালালাবাদ, ৪ নম্বর চান্দগাঁও, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলী, ১৪ নম্বর লালখান বাজার, ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া, ৩১ নম্বর আলকরণ, ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, ৩৯ নম্বর দক্ষিণ হালিশহর ও ৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা এলাকা।
ডা. খাদিজা জানান, ঘনবসতিপূর্ণ এবং শিল্প এলাকা যেখানে বাইরের জেলার মানুষের যাতায়াত বেশি, সেসব স্থানে সংক্রমণের হার বেশি। বিশেষ করে বন্দর-পতেঙ্গা, সদরঘাট-আলকরণ এবং বাকলিয়া এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানিয়েছেন, মার্চের শেষ দিক থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ৩৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে আইসিইউতে ১৫ জনসহ মোট ১৩০ জন শিশু সেখানে চিকিৎসাধীন। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগে এ সংখ্যা ৩১ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সোমবার প্রথমবারের মতো তথ্য দিয়ে জানিয়েছে, তাদের হিসেবে জেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে ৬ জন মারা গেছে, যার মধ্যে ৪ জনই নগরীর বাসিন্দা। নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের।
হামের সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, হাসপাতালে অন্য রোগের চিকিৎসা নিতে আসা শিশুরা আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসে হামে সংক্রমিত হচ্ছে। এই ঝুঁকি কমাতে আগামী সপ্তাহ থেকে নগরীর মেমন হাসপাতাল ও রেলওয়ে হাসপাতালকে শুধুমাত্র হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট করার পরিকল্পনা চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সরাসরি কোনো ওষুধ নেই; লক্ষণ অনুযায়ী (জ্বর, কাশি বা নিউমোনিয়া) চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধের উপায় হলো ভ্যাকসিনেশন।
চট্টগ্রাম জেলায় ইতোমধ্যে প্রায় ৭ লাখ এবং নগরীতে ২ লাখ ৮১ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন আশা প্রকাশ করছেন, টিকাদান কর্মসূচি সফল হলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণের গতি কমে আসবে। সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক ব্যবহার, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।