জব্বারের বলীখেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ
বিকেলে অনুষ্ঠিত এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফাইনালে তিনি কুমিল্লার আরেক প্রতিযোগী রাশেদ বলীকে পরাজিত করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
জব্বারের বলীখেলায় হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা
ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে অনুষ্ঠিত জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসরে টানা তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার বলী মো. শরীফ, যিনি ‘বাঘা শরীফ’ নামে পরিচিত। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফাইনালে তিনি কুমিল্লার আরেক প্রতিযোগী রাশেদ বলীকে পরাজিত করে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
বিকেল সাড়ে ৩টায় শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় মোট ১১৭ জন বলী অংশ নেন। ফাইনাল ম্যাচে ‘বাঘা’ শরীফ ও রাশেদ বলীর লড়াই প্রায় ২৪ মিনিট স্থায়ী হয়। দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই দেখতে লালদিঘী মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার দর্শক ভীড় করেন। শেষ পর্যন্ত নিজস্ব কৌশল ও শক্তিতে রাশেদ বলীকে পরাস্ত করে ‘বাঘা’ শরীফ টানা তিন বছর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব ধরে রাখেন। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আসরেও তিনি একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়ী হয়ে শিরোপা জিতেছিলেন।
এর আগে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি চট্টগ্রামের এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং খেলা পরিচালনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুব সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯০৯ সালে বকশিরহাটের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এই কুস্তি প্রতিযোগিতার সূচনা করেন। কালের পরিক্রমায় এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বাংলা ১২ বৈশাখকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই বলীখেলাকে ঘিরে লালদীঘি মাঠে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়, যা চট্টগ্রামের সংস্কৃতির অন্যতম অবিচ্ছেদ্য অংশ।