ফ্রান্সকে উড়িয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন
২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বজয় করা স্পেন এবার লামিন ইয়ামাল-ওলাইয়াসাবালদের ওপর ভর করে দ্বিতীয়বারের মতো সোনালী ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে।
ফটো: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ফেবারিট ও তারকাখচিত ফ্রান্সকে বিদায় করে স্বপ্নের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ফরাসিদের ওপর পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করে ২-০ গোলের দাপুটে জয় পেয়েছে লা রোজারা। এই জয়ে ২০১০ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্প্যানিশরা।
কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে কিংবা বারকোলার মতো বিশ্বসেরা আক্রমণভাগ নিয়েও স্পেনের সংগঠিত ফুটবলের সামনে পুরো ম্যাচে কোনো কার্যকর উত্তর খুঁজে পায়নি দিদিয়ের দেশমের দল। ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্বজয় করা স্পেন এবার লামিন ইয়ামাল-ওলাইয়াসাবালদের ওপর ভর করে দ্বিতীয়বারের মতো সোনালী ট্রফি ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফ্রান্সকে চেপে ধরে স্পেন। শুরুর নবম মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ফ্রি-কিক পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি স্প্যানিশরা। তবে গোলের জন্য তাদের খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি।
ম্যাচের ২৩তম মিনিটে ফরাসি ডি-বক্সের ভেতর তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালকে ফাউল করা হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় নিখুঁত শটে ফরাসি গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করে স্পেনকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অধিনায়ক মিকেল ওইয়ারসাবাল।
গোল হজম করার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পে বেশ কয়েকবার নিজের গতি ব্যবহার করে স্পেনের রক্ষণভাগে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করেন। তবে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার কুকুরেয়া, লাপোর্তে ও কুবারসির ইস্পাতকঠিন রক্ষণে বারবার প্রতিহত হয় ফরাসিদের সব আক্রমণ। সেই সাথে গোলপোস্টের নিচে উনাই সিমনও ছিলেন এককথায় দুর্ভেদ্য। ফলে ১-০ গোলের ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।
বিরতির পর মাঠের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের হাতে নেয় স্পেন। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে দানি ওলমোর সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু পাস খেলে ফ্রান্সের জালে বল জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করেন ডিফেন্ডার পেড্রো পোরো। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় ফরাসিরা।
ম্যাচের শেষ দিকে ইয়ামাল আরও একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। অন্যদিকে হন্যে হয়ে গোল খোঁজা ফ্রান্সকে একের পর এক হতাশ করেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন। এমবাপ্পের একটি নিশ্চিত গোলার মতো শট কুকুরেয়ার দুর্দান্ত ব্লকে আটকে গেলে ফ্রান্সের ম্যাচ ফেরার শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন।
আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের নিউজার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী মেগা ফাইনালে মাঠে নামবে স্পেন। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাওয়া আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের মধ্যকার বিজয়ী দল। অন্যদিকে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া ফ্রান্সকে এখন সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে রানার্সআপ বা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে।