ব্রেকিং
আনোয়ারা থেকে শিশুকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার দমন-পীড়নের রাজনীতি ফিরলে ছাত্রসমাজ আবারও প্রতিরোধ গড়বেঃ কর্ণফুলীতে শিবির নেতা জাহিন আনোয়ারায় দুই রোহিঙ্গার পেট থেকে মিলল ৯ হাজার ইয়াবা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে আনোয়ারায় ছাত্র-যুব-স্বেচ্ছাসেবকদলের বিক্ষোভ জবি ও ঢাকা কলেজে  ছাত্রদলের হামলার অভিযোগে উত্তাল ক্যাম্পাস কর্ণফুলীতে বনভূমি দখল ও একাধিক মামলার অভিযোগে আলোচিত সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার আনোয়ারায় আর্থিক লেনদেনের বিরোধে যুবদল কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ ঘর পুনর্নির্মাণে আনোয়ারার ২৬৬ পরিবারকে ঢেউটিন দিল কাফকো প্রিয় আনোয়ারার অনুসন্ধানঃ সিইআইজেড এর নামে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আইনগত ব্যবস্থায় যাচ্ছে সিআরবিসি শিকলবাহা খালে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে পুলিশ আনোয়ারা থেকে শিশুকে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার দমন-পীড়নের রাজনীতি ফিরলে ছাত্রসমাজ আবারও প্রতিরোধ গড়বেঃ কর্ণফুলীতে শিবির নেতা জাহিন আনোয়ারায় দুই রোহিঙ্গার পেট থেকে মিলল ৯ হাজার ইয়াবা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে আনোয়ারায় ছাত্র-যুব-স্বেচ্ছাসেবকদলের বিক্ষোভ জবি ও ঢাকা কলেজে  ছাত্রদলের হামলার অভিযোগে উত্তাল ক্যাম্পাস কর্ণফুলীতে বনভূমি দখল ও একাধিক মামলার অভিযোগে আলোচিত সালাউদ্দিন গ্রেপ্তার আনোয়ারায় আর্থিক লেনদেনের বিরোধে যুবদল কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ ঘর পুনর্নির্মাণে আনোয়ারার ২৬৬ পরিবারকে ঢেউটিন দিল কাফকো প্রিয় আনোয়ারার অনুসন্ধানঃ সিইআইজেড এর নামে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আইনগত ব্যবস্থায় যাচ্ছে সিআরবিসি শিকলবাহা খালে বস্তাবন্দি অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে পুলিশ
সাহিত্য

একব্যাগ শৈশব

ওসমান মাহমুদ ৫ আগস্ট ২০২৬ রাত ১২:২ সময়

গাড়িতে উঠতে গিয়ে হঠাৎ খেয়াল করল, ইহান নেই। নেই মানে নেই-ই। মাত্রই তো এখানে ছিল। মুহূর্তেই হাওয়া হয়ে গেল ছেলেটা! ওকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় গেল ইহান?

একব্যাগ শৈশব

একব্যাগ শৈশব| ওসমান মাহমুদ | ফটো: প্রিয় আনোয়ারা কোলাজ

ওসমান মাহমুদ 

শীতের সকাল। গ্রামের মাটির রাস্তা। সাদা কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে ঝিমিয়ে পড়ছে পুরো গ্রাম। ইহানদের বাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে আছে একটি সাদা প্রাইভেট কার। আজ ইহানরা শহরে চলে যাবে। গাড়িটি ওদের জন্যই অপেক্ষা করছে। মাহিন তুহিনকে নিয়ে ওর বাবা-মা ব্যাগপত্র গুছিয়ে গাড়িতে ওঠার জন্য রেডি। গাড়িতে উঠতে গিয়ে হঠাৎ খেয়াল করল, ইহান নেই। নেই মানে নেই-ই। মাত্রই তো এখানে ছিল। মুহূর্তেই হাওয়া হয়ে গেল ছেলেটা! ওকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় গেল ইহান? কিছুক্ষণ আগেও তো নিজের ব্যাগ গুছিয়ে গাড়িতে ওঠার তোড়জোড় করতে দেখা গেছে। বুকের ভেতর অজানা এক আশঙ্কা মোচড় দিয়ে উঠল। সে কী শহরে যাবার ভয়ে পালিয়ে গেলো! খোঁজ পড়লো চারদিকে।

ইহানরা তিন ভাই-বোন। গ্রামের একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে ইহান। ওর ছোটবোন মাহিন একই স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। তুহিনের বয়স মাত্র ছয় মাস। বাবা শহরে সামান্য একটি চাকুরি করেন। আর্থিক দৈন্যদশা থাকলেও সন্তানদের ভালো পড়াশোনার সুবিধার্থে ইহানের বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন, তাদেরকে শহরে নিজের কাছে নিয়ে যাবেন। শহরের একটি স্কুলে দুই ভাই-বোনের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। এবার যাবার পালা। জানুয়ারি মাস। প্রচুর শীত। শৈত্যপ্রবাহ চলছে। টানা কয়েকদিন সূর্যের দেখাই নেই। এমনি এক দুর্যোগপূপূর্ণ আবহাওয়ায় ওদের শহর যাত্রার সূচনা।

শহরের জনাকীর্ণ পরিবেশ আর বন্ধুবান্ধবহীন নতুন অচেনা স্কুলে নিজেদের কিভাবে মানিয়ে নেবে, এটা নিয়েই দুই ভাই-বোনের যত দুশ্চিন্তা। রাত হলেই নানা আলাপে উঠে আসে ইহানের কৌতূহলী জিজ্ঞাসা, "ওখানে কি বড় খেলার মাঠ আছে, বাবা? কানামাছি খেলা আর ঘুড়ি উড়ানো যায়? ক্রিকেট, ফুটবল খেলার ব্যবস্থা আছে?" এন্তার প্রশ্ন।

"হ্যাঁ, বাবা। শহরেও খেলাধূলার ব্যবস্থা আছে। তবে একটু সীমিত। এখানে কেউ কানামাছি না খেললেও ছাদে উঠে অনেকেই ঘুড়ি ওড়ায়। ক্রিকেট-ফুটবল তো তুমি স্কুল মাঠেই খেলতে পারবে।"

বাবার জবাব শুনে একটু যেন আশ্বস্ত হলো ইহান।

"শুনেছি, শহরে নাকি বড় দালানের জন্য আকাশই দেখা যায় না, বাবা?"

"যায়, বাবা। আকাশও দেখা যায়। গ্রামের মতো এত দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ হয়তো দেখা যায় না।"

কথা শুনে কিছুটা যেন ভাবনায় পড়লো ইহান। দুশ্চিন্তা কমাতে সাহস দিলেন বাবা। বললেন, "ছাদে আর খোলা জায়গায় দাঁড়ালে পূর্ণিমা রাতে তুমি জোছনাও দেখতে পাবে।"

পাশে শুয়ে বাবা ভাইয়ের কথোপকথন শুনছিল ছোট্ট মাহিন। ওর মনেও এলোমেলো অনেক ভাবনা। নানান প্রশ্ন জাগছে। স্কুলের আর বাড়ির বান্ধবীদের ছেড়ে সে কীভাবে থাকবে অচেনা শহরে, ভেবেই কূল পাচ্ছে না। নতুন স্কুলে খেলার সাথী তাহিয়া, হাবিবা, আয়েশাদের মতো কেউ না থাকলে সে কার সাথে খেলবে, কার সাথে গল্প করবে? এসব ভেবে ভেবে তার চোখের কোণে অশ্রু জমে। বেদনার অশ্রু। চিরচেনা গ্রামকে ছেড়ে যাবার বেদনা। চোখ মুছতে মুছতে বাবাকে জিজ্ঞেস করে, "আমরা যাওয়ার সময় কি তাহিয়াকেও সঙ্গে নিয়ে যাব, বাবা?"

"না, মা। তা কী করে হয়? তুমি যেমন তোমার বাবা মায়ের সঙ্গে থাকবে, তাহিয়াও ওর বাবা মায়ের সঙ্গে থাকুক।"

সীমাহীন দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলো মাহিন। নানা প্রশ্ন এসে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে তার ভাবনায়। গভীর ভাবনা। শেষে ধরা গলায় জিজ্ঞেস করল, "তাহলে আমি কার সাথে খেলব, বাবা?" মাহিনের কন্ঠে যেন এক অনন্ত বেদনা ডুঁকরে কেঁদে উঠলো।

বাবা নিরুত্তর। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, "তুমি আমার সাথে খেলবে, তোমার আম্মু ভাইয়ার সাথে খেলবে। তুহিকে নিয়ে খেলবে। ঠিক আছে, মা?"

তাতেও যেন কোনো সান্তনা খুঁজে পায় না সে।

হতাশ গলায় মাহিন বললো, "তুমি থাকবে বাইরে, আম্মু তো কাজেই ব্যস্ত থাকবে। পুতুলগুলো নিয়ে আমি সারাদিন কীভাবে কাটাব, বাবা? তাছাড়া তুহিন তো এখনও ছোট্ট বাবু।"

"মন খারাপ করো না, মা। আস্তে আস্তে নতুন স্কুলেও তোমার অনেক বান্ধবী হয়ে যাবে। তুমি তখন তাদের সঙ্গে খেলবে, গল্প করবে। কেমন?"

"শহরে কি মটরশুঁটি খেত, সরিষা ফুলের বাগান, এসব আছে?" এতক্ষণ চুপচাপ শুনতে থাকা ইহান জানতে চাইল।

"না, বাবা। শহরে এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নেই। সেজন্য মন খারাপ করো না। শহুরে সৌন্দর্যটা কেমন, সেটা তো উপভোগ করতে পারবে।"

"দোয়েল, শালিক, টুনটুনি, মাছরাঙা, চড়ুই, এসব পাখি আছে, বাবা?"

"না, এসবও খুব বেশি নেই শহরে। তবে শহরের যেখানে বনভূমি আছে, গাছপালা আছে, সেখানে কিছু পাখি দেখা যায়।"

"তাহলে বাড়ি থেকে কিছু শালিক আর চড়ুই পাখি ধরে আমরা আমাদের শহরের বাসায় নিয়ে যাই?"

"এটা কেন করবে, বাবা? পাখিরা বন বাদাড়েই সুন্দর। বনেই তাদের বাসা। স্বাধীনভাবে উড়তে না পারলে আত্মীয়-স্বজনহীন শহুরে পরিবেশে বন্দি খাঁচায় পাখিরা বেশিদিন বাঁচে না।"

"কেন, বাবা? অনেক পাখি তো খাঁচায়ই থাকে। তারা তো বেঁচে আছে।"

"তা ঠিক। কিন্তু বাবা, মানুষ যেমন স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে না পারলে, ইচ্ছেমাফিক ভাব বিনিময় আর নিজেদের অধিকার অর্জনে বাধা পেলে আত্মার মৃত্যু ঘটে, পাখিদেরও তেমন কষ্ট হয়। তুমি যদি তাদের ধরে এনে খাঁচায় বন্দি রাখো, তাহলে পাখিরা তাদের বাবা-মায়ের আদর থেকে বঞ্চিত হবে, স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত হবে। স্বাধীনভাবে সুন্দর সুনীল আকাশে ওড়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে। সেটা কি ঠিক হবে, বলো?"

ভাবনায় পড়ল ইহান। অনেকক্ষণ ভেবেই সাড়া দিল,

"তা তো ঠিক নয়। এটা তো আসলেই খুব কষ্টের। এভাবে তো কোনোদিন ভেবে দেখিনি। ঠিক আছে, বাবা। আমরা আর কোনো পাখিকে বন্দি করে কষ্ট দেব না।"

"কিন্তু ওই যে অধিকারের কথা বলেছো, সেটা কেমন? মানে, পাখিদের আবার কিসের অধিকার, বাবা?"

"পাখিরা মুক্ত-স্বাধীন। চিরস্বাধীনতার অধিকার নিয়ে তারা জন্মগ্রহণ করে। তাদেরকে খাঁচায় আঁটকে স্বাধীন চলাফেরায় বাধা দেওয়া নৈতিকভাবে অপরাধ। এতে পাখিদের কষ্ট হয়। মানুষের কাছে ভালো আচরণ পাওয়া পাখিদের অধিকার। তাই তীর-ধনুক, গুলতি, যে কোনো ফাঁদ পেতে পাখি শিকার কোনোক্রমেই ঠিক নয়। পাখিরা আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। পাখি আমাদের বন্ধু।"

গভীর রাত। দুই ভাই-বোন নতুন জায়গায় যাবার একটা মানসিক অস্থিরতা আর চিরচেনা ঘরবাড়ি, পুকুর, মসজিদ, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ ছেড়ে যাবার অব্যক্ত বেদনা নিয়ে বাবার গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ল। নানারকম স্বপ্ন আর দুঃস্বপ্ন দেখতে দেখতে রাত কেটে গেল। ঘুম না ফুরাতেই ওদের ঘুম ভেঙে গেল।

আজকের সকালটা বেশ ঝাপসা, গুমোট ভাব। কী কুয়াশার পর্দা, নাকি ইহানদের গ্রাম ছেড়ে যাবার বেদনার প্রকাশ, কে জানে! সাদা গাড়িটি দাঁড়িয়ে আছে ইহানদের বাড়ির ঠিক পেছনে। এক এক করে ইহানের আব্বু-আম্মু সকলেই উপস্থিত। সবাই গাড়িতে ওঠার অপেক্ষায়। গাড়ির চারপাশ ঘিরে বিদায় জানাবার জন্য দাঁড়িয়ে আছে ইহানের দাদা-দাদু, চাচ্চুরা। নানা-নানু, খালামণিরাও অশ্রুসজল চোখে অপেক্ষমাণ। একটু দূরে গোমড়ামুখে তাকিয়ে আছে মাহিনের আজন্ম খেলার সাথী তাহিয়া। টলোমলো চোখ। পাশেই পাড়া-প্রতিবেশি স্বজনরা। বিদায় মুহূর্তে কোলাকুলি, মুসাফাহ্ করবার জন্য স্বজনরা এগিয়ে এলো। ড্রাইভার তাড়া দিতেই বাবা-মা মাহিন তুহিনকে নিয়ে বসে পড়লো গাড়িতে। এমন করুণ মুহূর্তে হঠাৎ সকলের খেয়াল হলো, ইহান নেই। মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল, "নেই, নেই!" রব।

গত দু'দিন যাবৎ সামনে ড্রাইভারের পাশের সীটে বসবে বলে কান ঝালাপালা করার অবস্থা। কত কৌতূহল, উদ্দীপনা। তার যুক্তি, "সামনে বসলেই বাইরের দৃশ্য, গাড়িঘোড়া, রাস্তার দু'পাশে বিস্তৃত সবুজ প্রান্তর দেখা যায়। তাছাড়া সামনে বসলে দিক ভুলে যাবারও কোনো আশঙ্কা থাকে না। গাড়ি কোনদিকে মোড় নিচ্ছে, এসব স্বচক্ষে দেখা যায়।" এই নিয়ে দু'ভাইবোনের মধ্যে অনেক মান-অভিমান হয়। শেষে সিদ্ধান্ত হলো, ইহান সামনের সীটেই বসবে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক মাহিন পেছনের সীটে উঠে বসল। এখন সামনের প্রশস্ত সীটটা তো যাত্রীর অপেক্ষায়। কিন্তু ইহান কই? কোথায় পালালো বুকের মানিক! আঁৎকে উঠলো বাবা-মায়ের বুক। ইহানের আম্মু তো প্রায় কেঁদেই ফেলল। খোঁজ পড়লো চারদিকে। মক্তব, মসজিদ, পুকুরঘাট, কলতলা, ফাতেমাদের বাড়ি, কোথাও নেই। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সকলের চোখে-মুখে। তবে কী ছেলেটা সত্যি সত্যিই পালিয়ে গেল? আত্মীয়-স্বজন ছেড়ে শহরে যাবার ব্যাপারে পুরোপুরি আগ্রহ না থাকলেও কখনও অনীহা প্রকাশ করেনি ইহান। মাঝেমধ্যে আলাপচারিতায় শহরের জীবনযাপন নিয়ে বরং চাপা কৌতূহলই প্রকাশ করেছে সে। কিছুটা দোদুল্যমানতা থাকলেও শহরের প্রতি আগ্রহটাই প্রকাশ পেয়েছে বেশি।

দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ল ইহানের দাদার কপালে। নানা-নানুও চিন্তিত। খালামণিরাও খুঁজে খুঁজে হয়রান। উপস্থিত সকলের চোখেমুখে উৎকণ্ঠা। অসংখ্য সন্ধানী চোখ খুঁজে ফেরে একটি মুখ। কচি কোমল যে মুখটি একটু পরেই ছেড়ে যাবে পরম মমতায় মেশানো এই গাঁয়ের আলো-হাওয়া। এদিকে ড্রাইভারও খুব তাড়া দিচ্ছে। হর্ণ বাজাচ্ছে বারবার।

এমন সময় পেছনে দেখা গেল, অনেকটা দৌড়ে-দৌড়ে গাড়ির দিকে আসতে লাগলো ইহান। দু'হাতে অতিকষ্টে পাঁজাকোলা করে ধরে রাখা পুরনো মশারি প্যাঁচানো একটি পুটলি। ছেঁড়া-ফাটা সেই পুটলি হাতেই ইহান দৌড়াচ্ছে আর পড়ে যাচ্ছে। উঠেই আবার দৌড়াচ্ছে গাড়ির দিকে। মশারির ফাঁক দিয়েই দেখা যাচ্ছে, ওই পুটলির মতো ব্যাগে তার প্রিয় খেলনাপাতি, ব্যাটবল, স্টাম্প, গুলতি, ফুটবল, একটি লাটিম, দু'টো চুম্বক, একটি খেলনা গাড়ি আর কতগুলো রংপেন্সিল।

পুরনো এই ছেঁড়া ব্যাগটি অব্যক্ত এক হাহাকার ছড়িয়ে দিল ভোরের বাতাসে।

লেখকঃ কবি, শিশুসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক

ট্যাগ: #ওসমান মাহমুদ #গল্প
মন্তব্য (0)
আপনার মন্তব্য লিখুন
* চিহ্নিত তথ্য আবশ্যক। অশালীন মন্তব্য মুছে দেওয়া হবে।